নকল সোনা (শ্রুতি নাটক)
সোনালী-(ঘর থেকে) ওগো শুনছো, কে এসেছে দেখ।
অশোক-(বাথরুম থেকে) এসময় কে আবার আসবে?
স-কেন সময়টা খারাপ কিসের? সময়ের দোষ কি?
অ-(বাথরুমে জল পড়ার শব্দ কাছে এসে গলা সারিয়ে) কই ? কোথায়? কাউকে তো দেখছি না!
স- কিছু দেখতে পাচ্ছ না?
অ-তোমাকে দেখছি; রোজই তো দেখি; পায়খানাটা ঠিক মত সারতে দিলে না।

স-এই অসময়ে পায়খানা! আজ সন্ধেটা এক্কেবারে মাটি করে দিলে!
অ-তা কেন – মাটিই তো সোনা, সোনালী রয়, সোনাই মাটি।
স -আমার নাম নিয়ে মশকরা!
অ- তা নয়,ধর যেমন- সোনা রোদ আবার স্বর্নালী সন্ধ্যা।
স- তোমার শুধু ভাবের কথা । আসল সোনা তোমার চোখে দেখা যায় না।
অ-কেন যাবে না। তুমি আমার সোনা।এইতো আমি রেডি।
ঘাস বিছানো প্রেমের বাগানে একটু প্রেম ট্রেম। সান্ধ্যভ্রমণ।
চল,পার্কের সীটটা কাঁদবে।
স-না গো আজ অনেক দেরী হয়ে গেল,তারা আমায় না দেখলে দুঃখ পাবে।
অ-তারা কারা?
স- ন্যাকা। যাদেরকে রোজ দেখ? আমার বন্ধুরা।
অ-তুমিই দুঃখ পাবে -তারা নয়।
স-তর্ক করোনা।
অ-আচ্ছা বলতো তুমি তাদের সাজ দেখ না তারা তোমার সাজ দেখে?
এত সাজগোজ কিসের!
স-সেজেছি নাকি! কি দেখে বুঝলে! নাক, মুখ,কান,গলা?
অ- না কিছু দেখিনি, জান আমি এখন আর কিছু দেখতে পাই না। কেবল তোমাকেই দেখি।
স -এ কথা অনেক শুনেছি। দেখার চোখ থাকলে তো দেখবে।
অ-তুমি পাল্টাও রূপ আমি দেখি আকাশ।
ছুঁয়ে যেতে যেতে তোমায় প্রেম দিয়ে যায় বাতাস।
এবার চল ।
(দরজা লাগিয়ে, শহরের পথে, পার্কে সীটে বসে)
স- আজ এই লাল শাড়িটায় আমায় কেমন লাগছে?
অ-ধুতুরা ফুলের মত।
স- গোলাপ নয় কেন?
অ-ওই তোমার বন্ধুরা আসছে ওদেরকে জিজ্ঞেস কর।
স- ধ্যেৎ! ঘরে ও বই এখানেও বই। নিরস প্রানী তুমি একটি।
অ- কি মুশকিল তোমার সাজের গল্পই তো পড়ছি। বই বউ ছাড়া আমার কি আছে বল?
স-তোমাকে নিয়ে আমি আর কোথাও যাবো না ঠিক করেছি।
অ-খুব ভালো, তাই হবে।
আমি রব না তুমি রবে, দুটি প্রেমের সমাধি হবে।
স-এই ভালো হবে না বলছি,
আমি চললাম।
অ-কতক্ষন?
স-একেবারে।
অ-ওইতো তোমার বন্ধুরা ডাকছে। খুব ভুল হয়েছে, একটু দেরী হয়ে গেল, অন্ধকারে তোমার সাজগোজটা দেখাবে কি করে। একটু আগে বেরোলেই ভালো হতো।
স- কেন পার্কের নিয়ন লাইট আছে তো।

অ-তা ঠিক, সোনা জ্বলবে।
স-সোনা কোথায় দেখলে?
অ-দেখিনি তো। বউ কি সোনা হতে পারে না। তাছাড়া সোনালী আমার খুব প্রিয় নাম, তাই তুমি সোনা,হাতে সোনা কানে সোনা,-এ কি! গলায় ওটা কি!
স-কিছু না ।
অ-দেখি দেখি- হার! সোনার হার!
স-চুপ চুপ – ওরা শুনবে। তুমি আমাকে যে এতক্ষণ দেখনি সে আমি বুঝেছি।
অ- ও তাই-এই এত বড় ভারী সোনার হার কোথায় পেলে? কে দিল?
স- তুমি ছাড়া কে দেবে আমায়! বন্ধুরা সব গলায় কত দামী দামী হার পরে পার্কে আসে। আমার বড় লজ্জা করে।
অ-তাই বল। সত্যিই কি এটা সোনার হার?
স-কেন সন্দেহ আছে নাকি!
অ-সন্দেহ থাকবে না! ডিএর এরিয়ার এখনও ব্যাংকে ঢুকলো না। যা পাবো তোমার শখ মেটাতে আরো বেশি ধার করে ফেলেছি। তারপরে ও যদি হারের জন্য ধার হয়!
স-সোনাই তো। এই নিয়ে চিন্তা করো না। ওটা পরে সময় মত দিলেও চলবে।
অ-সে কি! ধার করে গলায় সোনার হার, গলায় দড়ি দিয়ে যাবো ওপার।
স-সবাই শুনতে পাবে।
অ-শোনাবো-সবাইকে শোনাবো,
সোনার হার পরলেই কি সুন্দরী হওয়া যায়?
স-তোমার ওই কাব্য রাখ।
অ-এই দেখ, মিতা এদিকেই আসছে।
মিতা-হ্যালো সোনা।
স-হ্যালো মিতা।
মিতা -আজ তোমাদের আসতে দেরি কেন?
স- আর বলিস না ভাই। বেরোবার সময়েই অশোকের বন্ধু হাজির। স্বামী স্ত্রীর ঝামেলা। আমাকেই মেটাতে হলো।
অ-মিথ্যে কথা। ও আমাদের ঝগড়ার কথা বলছে।
স – তুই ওর কথায় কান দিস না, বই পড়ে পড়ে মাথাটা গেছে।
অ-আমার মাথা গেছে তোমার মাথা আছে। গলায় সোনার হার পরলেই মিথ্যা সত্য হয়ে যায় না।
স-মিতা,কেমন হয়েছে বল এই হারটা?

মিতা-আরে বাস্ হারটা ভারী সুন্দর তো! কত পড়লো?
স -পঞ্চাশ হাজার। কেমন লাগছে  বল্।
মিতা – খুব ভালো। কোথায় বানিয়েছিস দোকানের নাম কি?
স – পি সি চন্দ্র।
অ- (স্বগতোক্তি)আর পারছি না, সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে….
এবার উঠতে হবে।
স-এইতো এলাম। বন্ধুর সাথে ঠিকমত কথা হলনা ,এখনি উঠবে!
অ-কাল হবে, আশ্চর্য ! কাল তো আবার দেখা হবে।
স-মিতা বাই বাই।
মিতা – বাই।
(ঘরে ফিরে)
স-একি! শুয়ে পড়লে কেন?
অ-মাথাটা ঘুরছে।
স-সেকি! কি হলো তোমার?
অ-কিছু বুঝতে পারছি না। কেমন যেন চারদিক…. ঘরটা ঘুরছে। না শুধু ঘর নয় ফ্যান বাদে সব যেন ঘুরছে।
স-নিশ্চয়ই প্রেসার বেড়েছে।
অ-বাড়তেই পারে।
স-বুঝেছি , চা করে দিচ্ছি,
জল খাও চা খাও সব ঠিক হয়ে যাবে।
অ- এ ঠিক হবার নয়। পৃথিবীটা ও যে ঘুরছে।
স-পৃথিবী ঘোরা বন্ধ ছিল কবে?
অ-বনবন করে ঘুরছে, এই বুঝি পড়ে যাবো।
স-না পড়বে না, এই আমি ধরে আছি।

অ-তুমি পারবে না ধরে রাখতে।
স-পারবো -খুব পারবো। খাটেই তো শুয়ে আছ ….নাটক করছো কেন?
অ-নাটক করছি? তুমি আমার সবচেয়ে বড় শত্রু , তুমি কি কিছু বোঝো না? আমার মৃত্যুর জন্য তুমি দায়ী হবে। স-হবো, তাতে কি? স্বামী স্ত্রীর দ্বন্দ্বে একজনকে তো সরে যেতে হবে। কেউ না কেউ তো দায়ী হবে। টেনশন নিও না।

অ-টেনশন? কিসের টেনশন? তুমি কি আমাকে বোকা ভেবেছ?
স – বোকাই তো। তোমার এই নাটক তো পঞ্চাশ হাজারের। আমি কি বুঝিনি?

অ-বুঝেছ তাহলে? ডিএর টাকায় সোনার দেনা আমি মেটাতে পারবো না।

স-তোমাকে মেটাতে হবে না।
নাটক তুমিও করতে পার আমিও পারি।
অ-তাই! তোমার নাটকটা শুনি।
স -এই নাও এই হারটা হাতে নিয়ে দেখ। সোনার গলায় সোনার হার মানায় না।

দুজনে-ইমিটেশন! (হাসি, হাসি মিলিয়ে যায়)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *