ভুটভুটি যে চালাচ্ছিল ছেলেটির বয়স হবে পঁচিশ থেকে তিরিশের মধ্যে । সুদীপ, তৃনাঞ্জন, আমি ও আমাদের সহধর্মিনী শুনছিলাম ছেলেটির রোজকার বলা কথাগুলো। অবিভক্ত বাংলার পুরোনো কথাগুলো নতুন জেনারেশনের মধ্যেও অবিকল থেকে গেছে। ভাগের পরে দুই বাংলার মানুষ কোন আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে ভাই ভাই সম্পর্কের জের বজায় রেখেছে। মা ইছামতীর বুকে নৌকায় চড়ে ঘুরে দেখছিলাম কিভাবে বাংলাদেশের মাটি স্পর্শ করা যায়। ওই দেখা যায় বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা। আমরা ভারতের টাকীতে। ছেলেটি বললো-‘দুর থেকেই দেখতে হবে নদীর মাঝ বরাবর ভারতের সীমানা পেরোনো যাবে না, আপনারা চাইলে ওদের ভুটভুটির পাশে নিয়ে কথা বলিয়ে দিতে পারি’। আমি বললাম-‘ ভুটভুটিতে লাগানো জাতীয় পতাকাটি যদি পাল্টে দেওয়া যায়’। ছেলেটি শুধু হাসলো, ভেতরে কিছু কথা ছিল সে কথা আলোচনার বিষয় নয়। তবে বোঝা গেল অবাধ যাতায়াত দিনরাত চলছে। মা ইছামতী কাউকে বাধা দেয় না। উপগ্রহ চিত্র সিকিউরিটির নজরে আছে। সবাই আমরা মানুষ, মানুষ মানুষের জন্যে।দুদিন সরকারি নৃপেন্দ্র শিশু অতিথিশালায় থেকে বসিরহাট, টাকির রাজবাড়ী অন্যান্য পৌরাণিক ঐতিহাসিক স্থানগুলি দেখলাম। মিনি সুন্দরবন গোলপাতা ফরেষ্ট দর্শনে মুগ্ধ হলাম। যা দেখেছি সবটাই ভিডিওতে দিলাম। একটি কবিতা ও……..
ইছামতী ∆
ইছামতী নদীর দুই তীরে দুই ভাইকে রাখি
মাঝ নদীতে খেলা করে মাছরাঙা অতি মনোরম টাকি
স্বামীর দেশের মানুষ মোরা নজরুলের দেশে যাই ইছামতীর ইচ্ছে খুশী কোনো তুলনা নাই
ইচ্ছা থাকলে মতি মেলে খুঁজে নিতে হয়
মায়ের বুকে ভেসে যাই লাগেনা কোনো ভয়
ঝড় তুফান যতই উঠুক দুটি হৃদয় এক সুরে বাঁধা
একই মায়ের দুই সন্তান যাচ্ছি ভেসে কালের স্রোতে কাটিয়ে শত বাধা
সাতক্ষীরা,দেবহাটা, বসিরহাট,টাকি অপূর্ব মিল
দু ধর্ম এক রক্ত ভিন্ন হয় কি? কে দিল খিল
ইছামতীর দুই কুলে এক মানুষ একই বৃন্তে দুটি ফুল আছি মোরা বেশ
আগে যা এখন তাই এক দেশ মানুষ এক আমাদেরই বাংলাদেশ।






