:: কাঁথির গর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ::
কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি লড়াই করে জীবন বাজি রেখে আজ আমাদের ঘরের ছেলে বাংলার মুখ্য শাসনকর্তা। কলকাতার মানুষ হয়তো মনে করেন অথবা না করেন সর্বগুন সম্পন্ন তারাই যারা সম্পূর্ণ মানুষ। কলকাতা ।রাজনীতির শহরায়ন বোধ হয়  রাজ্যকে গ্রাস করেছিল। এই কঠিন বাস্তবের কথা ভাবছিলাম, কিভাবে শহরবাসীর মন থেকে এই আত্মগর্ব সরানো যাবে! জানিনা সবার মনে হয় কিনা ? শহরের কিছু মাতব্বর রাজ্যটাকে নিজের দখল ভেবে বসে আছে।
এখন মানুষ ভাত রুটির চেয়ে অর্থের কাঙাল অনেক বেশী। শহরের মানুষের চিন্তা ভাবনা গ্রামের মানুষকে সংক্রমিত করছে । ফেল কড়ি মাখ তেল, কড়ি ছাড়া মানুষ এখন কিছুই দেখতে পায়না। খুবই কঠিন ছিল সেই লড়াই। অর্থলালসামুক্ত গ্রামের এই ছেলেটি অর্থকরী রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তার জীবনকে এক নতুন জগৎ দেখিয়েছে। আজ শহরকেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে লড়াই করে হয়ে উঠেছে এক অদ্বিতীয় জননেতা।
অতি সাধারণ ছেলে যার কোন সংসারের প্রতি কোন পিছুটান নেই। পশ্চিমবাংলার গ্রামে গঞ্জে শহরে প্রতিবাদী নেতা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বুঝেছি ভয় বলে কোন জিনিস তার ছিল না। ভয়কে জয় করলেই তো মানুষের কাছে খুব দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে যাওয়া যায়। তার জেদী মনোভাব রাজ সিংহাসন পাওয়া এক অনন্য উদাহরণ। অন্য একজন কেউই সিংহাসনের দাবীদার থাকলো না। আজ গ্রাম থেকে উঠে আসা সরল ও উদার মনের একজন মানুষের শহুরে কুটকাছালি রাজনৈতিক আবর্তকে ভেঙ্গে খান খান করে দিয়েছে। গর্ব তো বটেই।
একবার মনে পড়ে সম্ভবত ১৯৯৯ সালে বামপন্থীদের পক্ষে একটি ডেলী সংবাদপত্র চালাতাম। তখন সে আমাকে বলেছিল -“আমাদের পক্ষে না লিখুন বিরুদ্ধে যাবেন না।”
কাঁথিতে তখন শিশির বাবু একচ্ছত্র অধিপতি।  একদিন কলম ফস্কে কেউ কিছু বিরুদ্ধে হয়তো লিখে ফেলেছিল। সটান আমার ঘরে এসে সেকি ধমক – “আপনাকে এখানে বন্ধ করে দেবো। আপনার ঘরের সামনে বস্তি বসিয়ে দেবো।” তেমন কিছু করেনি, ভালোবাসার ধমক। পরে আমার ঘরে এসে দোলনায় বসে তার কাকীমার কাছ থেকে বহুবার চা খেয়ে গেছে। মজার কথা বলি আমার স্ত্রী দু দুবার সিপিএম এর হয়ে পৌর ভোটে অংশগ্রহণ করায় আমার বাড়ীতে এসে দোলনায় বসে চা খাওয়া কিন্তু সে বন্ধ করেনি। কাঁথির সিপিএম এর মানুষ জন তার ভালোবাসার জালে জড়িয়ে তার ডানপন্থী সত্ত্বাকে জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। জনপ্রিয় সিপিএম নেতা সুধীর গিরির প্রতি তার শ্রদ্ধা বার বার জনমানসে প্রতিফলন ঘটিয়েছে। আমার খুব প্রিয় সেই সেদিনের লড়াকু ছেলে নাম  তার শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *