ছেলেবেলার স্মৃতিগুলো
ছেলেবেলার স্মৃতিগুলো মনে পড়ে যখন শুয়ে বসে থাকি
সেই রোমান্টিক ছবিগুলো স্বপ্ন দেখায় ভুলতে পারা যায় নাকি
সকাল সন্ধে সারাদিন কতকান্ড শিশুমনে ফুরাচ্ছে বাকী দিন
না ভেবে উপায় কি কেমন করে রাখি ধরে সেই স্মৃতি চিরদিন
লেখাপড়া অষ্টরম্ভা বইখাতায় মজা নেই বড্ড কষ্ট রোজ স্কুল যাওয়া
শনিবার দুপুর রবিবার বাদ বাকী ছুটির দিন চাইলেও আর যাবেনা পাওয়া
খেলা আর ছোটাছুটি জলে ঝাঁপ গাছে চড়া মাছ ধরা মনে আসে যত
কি আনন্দে কাটতো তখন সারাটা দিন খেয়াল খুশি মত
হরেকরকম মাটির পুতুল খেলনা পাতি গড়তাম মাঠে কাদামাটি দিয়ে
সবারটা সবার সেরা সবাই সেরা যুক্তি তর্ক দিয়ে দিতাম বুঝিয়ে
ডানগুলিতে সেরা ছিলাম দিতাম সবার নাক ফাটিয়ে
আক্রোশ বাড়তো যত রাগ তত যেতো আমার নাকের উপর দিয়ে
লাঙ্গল নিয়ে জেঠা কাকা যখন জমিতে হাল দিতে যায়
মাছরাঙা ঝপাৎ করে পড়তো জলে কই পুঁটি ধরে গাছে বসে খায়
ছানিজাল নিয়ে জমির জলে কাদা মেখে খেতাম লুটোপুটি
মায়ের রাগ শান্ত হতো দেখতো যখন লোটা ভরা চুনাপুঁটি
কলাপাতা মাথায় ছাতা বর্ষা যখন ঝেঁপে আসে
বয়ে যায় আমার কি খালবিল মাঠ পুকুর ঘর জলে ভাসে
পুকুর পাড়ে শুয়ে পড়া গাছে নারকেল পাড়া ঝপাৎ করে জলে
সাঁতার কেটে ডাঙায় উঠে পুকুরে ঝাঁপ দিতাম
গাছের ডালে ঝুলে
জং ধরা কাকার সাইকেল নিয়ে যেতাম খেলার মাঠে
তিন সওয়ারি চাপিয়ে সাইকেল চালাতাম নিজে যেতাম হেঁটে
ডোঙা চড়ে খালের জলে কত মজা দুর দুরান্তে যাওয়া
পদ্মফুল কঁইফুল দীঘির জলে শালুক তুলে খাওয়া রনপায়া চড়ে চলি কাদা পথে অবাক গ্রামের মানুষজন
এইটুকু বাচ্চা কি বুদ্ধি ইঞ্জিনিয়ার হবে বলে পাড়াপড়শী গন
কাঠের চাকা কাঠের পাটা লাগিয়ে বানাই চার চাকার গাড়ী
বন্ধুরা দড়ি ধরে টানে ছুটছে গাড়ী যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পৌঁছাতে হবে বাড়ি
সে সব স্মৃতি হারিয়ে গেছে অবশ হয়েছে মন
গ্রাম এখন শহর হয়েছে কোথায় খুঁজি সেই বাল্যজীবন।।




