— কাঁথিতে রাষ্ট্রপতি সুভাষচন্দ্র বসু–
১৯৮৮ সালের আরো আগের থেকে সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে গবেষণা চালাচ্ছিলেন খড়গপুর কলেজের পলিটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক মৃনাল কান্তি ঘোষ দস্তিদার সঙ্গে ছিলেন ঐ কলেজের সুপারিনটেনডেন্ট উজ্জ্বল কুমার রক্ষিত। ব্যাংকে চাকরির সুবাদে খড়গপুরে পোষ্টিং থাকা কালীন এই দুই ভদ্রলোকের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরবর্তী কালে নেতাজী অন্তর্ধান রহস্য সম্পর্কে গবেষণায় আমাকে যুক্ত করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে বালিঘাই শাখায় বদলী হই। বছর চারেক বালিঘাই থেকে ১৯৯২ সালে কাঁথিতে বাড়ী করে চলে আসি। সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে জানা যায় ১৮/৪/১৯৩৮ সালে রাষ্ট্রপতি সুভাষ বসু কাঁথির জাতীয় স্কুল উদ্বোধন করেন। কাঁথির নীহার পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের হুবহু কপি দিলাম। স্বাধীনতার আগে তিনি কাঁথিতে বহুবার এসেছেন। লুকিয়ে থাকার কারণে কাঁথিতে তিনি দিন্দাদের বাড়ীতে থাকতেন এরকম খবর কোন সংবাদ পত্র সেই সময় প্রকাশ করেনি। ১৯/৪/১৯৯৬ সালে আমরা তিনজন নীহার ভবনে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি সুভাষচন্দ্র বসুর গোপন ডেরার খবর। তিনি কাঁথিতে প্রায়সই আসতেন এবং দিন্দাদের বাড়ীতেই থাকতেন। তাঁর আসা যাওয়ার খবর কাগপক্ষীতেও টের পেতো না। দিন্দাদের পরিবারের লোকজন এরকম কোন তথ্য দিতে পারেননি। তবে এই বাড়িতে সুভাষ এসে যে থাকতেন প্রবীণ দুয়েকজনের মুখে শোনা গেল। নীহার বাবুর বাড়িতে হানা দিয়ে জানতে পারলাম যেদিন রাষ্ট্রপতি হিসাবে জাতীয় স্কুল পুনরুদ্বোধন করেন তার পরের দিন নীহার পত্রিকায় সম্পাদকীয় তে এই সংবাদ বেরিয়েছিল। সম্ভবতঃ নীহার বাবুর ছেলেই হবে, বড় পিচ বোর্ডে বাঁধানো নীহার পত্রিকার বড়খাতা সংযত্নে নিজে নিয়ে গিয়ে জেরোক্স দোকানে ১৫ টাকার বিনিময়ে এক কপি জেরোক্স করে দিলেন। প্রতিটি পাতার অবস্থা এতটাই করুন ছিল যে আঙ্গুলে ছোঁয়া যাবে না। তার আবার জেরোক্স। কোনভাবে লেখাগুলি উদ্ধার করে নতুন ভাবে টাইপ করে শারদীয়া দিনপত্র ২০০৩ এ ছাপিয়ে ছিলাম। বর্তমান দিনপত্রের সেই পাতাটি দিলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *