কপালকুণ্ডলা🍀
একশ সোত্তর বছর আগে কাঁথির কথা
বঙ্কিমচন্দ্রের গল্প গাথা
কাঁথি থেকে চব্বিশ মাইল সরলরেখা
অসীম সাগর মাঝে সাগর দ্বীপের অন্তিম রেখা যাচ্ছে দেখা
রসলপুর ঘাট থেকে লঞ্চে করে
যাই গঙ্গা সাগরে
সেখানে মানুষ কেমন থাকে ভাবে বেচারা ভবঘুরে
যুবক ছেলে বুকে অসীম সাহস তার
ব্যবসা বাণিজ্যে সাগর পাড়ি
সাগর সঙ্গমে নবকুমার
একদিন সাগর থেকে ফেরার পথে
সঙ্গীরা ছিল সাথে
রসুলপুরের পশ্চিম ঘাটে
সূর্য যখন যাচ্ছে পাটে
বজরা বেঁধে নদীর পাড়ে
রান্নার কাঠ আনতে ঝোপঝাড়ে
যায় হারিয়ে গহন বনে
দেরী দেখে বন্ধুগণে
যায় ভেগে সন্তর্পণে
কাপালিক এক ধরে তারে
মায়ের চরনে বলির তরে
শ্মশান মশান বাসস্থান
ওষ্ঠাগত জীবন প্রান
ঘর নাই সংসার নাই না হয় হলো কাপালিক
তার আবার কন্যা সন্তান এটা কি হলো ঠিক
পালিতা কন্যা বলেন জজ মামলা চলাকালীন
ইতিহাসের কথা মানতে হবে বন্দী বিচারাধীন
কাপালিকের মেয়ে কপালকুণ্ডলা
যুবতীর যৌবন জ্বালা
ব্রাক্ষ্মণ সন্তান নবকুমার
প্রেম হয় দুজনার
কাপালিক দেবে বলি
মায়ের পায়ে নরবলি
কাপালিকের অজ্ঞাতে
দুজনায় পালিয়ে রাতে
হিজলীর ভবানী মন্দিরে
পূজারীর পায়ে ধরে
লুকিয়ে রাখে দুজনারে
পূজারীর নিজের ঘরে
নবকুমার ও কপালকুণ্ডলার হলো বিবাহ বন্ধন
মহাকালী মা ভবানী ঘটায় এই মহামিলন
বিবাহ করে কাঁথি ছেড়ে যায় চলে সপ্তগ্রামে
পদ্মাবতী প্রথম বৌ আছে মতিবিবি নামে
ধর্মান্তর হওয়ার কারণে নবকুমার মতিবিবিকে ত্যাগ করে
নবকুমার ও কপালকুণ্ডলার বিয়ে হয়েছে গ্রামের সবাই জানতে পারে
মতিবিবি স্বামীর দাবিতে থাকতে চায় একই ঘরে
কাপালিক খুঁজে ফেরে তার মেয়েকে গ্রামের পথে পথে
খুঁজতে খুঁজতে দেখা হয় একদিন নবকুমারের সাথে
কপালকুণ্ডলাকে নিয়ে সঙ্গে তবেই সে ফিরে যাবে
মায়ের কাছে দিয়ে বলি তবেই সে শান্তি পাবে
কাপালিক যজ্ঞ করে ঘোর জঙ্গলে দিচ্ছে নরবলি
গাঁয়ের মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত শোনা যায় হে মা কালী
পুরুষ বেশে মতিবিবি কপালকুণ্ডলার সাথে মিলিত হয়
কাপালিক মদ খাইয়ে নবকুমারকে বলে আর দেরী নয়
মদমত্ত নবকুমার আঁধার দেখে চোখে
খড়্গ হাতে কাপালিক বলে গলা কাটবো এক কোপে
কপালকুণ্ডলাকে স্নান করাও ঐ পুকুরের জলে
কপালকুণ্ডলা ডুব দেয় আর ওঠেনা তলিয়ে গেল কোন অতল তলে
নবকুমার মা কালী বলে ঝাঁপ দিল উঠলো না কেউ হারিয়ে গেল তাদেরই পুণ্যফলে
কাঁথির ইতিকথা গল্পচ্ছলে সাহিত্যিকের কথায়
কপালকুণ্ডলা গল্প গাথায় অমর হয়েছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *