
‼️ মহা নবমী 🖊
শৈশব থেকে বড় হওয়া সেই গরীব গ্রাম,
মহানবমীতে গেলাম চলে দেখতে মন চাইল কেমন আছে গ্রাম।
সব কিছু পাল্টে গেছে পুরোনো কেউ নেই,
যারা আমার বন্ধু ছিল ধনী গরীব অনেকেই।
যেতে পড়ে রাস্তার ধারে খগেনের বাড়ী,
মহানবমীর কথা মনে হতেই ভাবলাম আজ মহানবমী তে খগেনের বাড়ী একবার ঢুকে পড়ি ।
পুরোনো যা দেখেছিলাম তেমনই আছে জীর্ণশীর্ণ কুঁড়েঘর,
খগেনের বাবা খুব গরীব ছিল দিন মজুরী করে চালাতো সংসার।
খগেন আমি একসঙ্গে পড়াশুনা করেছি বন্ধুত্ব গভীর,
গ্রাম আমার মা দূর্গা মায়ের কোলে কেটেছে অনেক বছর।
পূজোর সময় মেলায় যেতাম আমি খগেন চম্পা,
আমার কাকুর মেয়ে আমার চেয়ে ছোট নাম ছিল চম্পা।
খগেনের অতি প্রিয় চম্পা একটি লাল ফিতা তার চাই,
মহানবমীর মেলায় কিনলো একটি লাল ফিতা পকেটে পয়সা নাই।
চম্পা খুশী আমরাও খুশী মেলা ঘুরে ঘুঘনি দোকানে যাই,
শালপাতায় মোড়া তালপাতা দিয়ে ঘুঘনি কিনে খাই।
হঠাৎ একজন পেছন থেকে খগেনের হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেল ধরে,
বলে ফিতার পয়সা দাও নয়তো ফিতা ফেরত দাও চড় থাপ্পড় মারে।
খগেন ফিতার কথা অস্বীকার করে,
দোকানদার বেঁধে ফেলে বেদম মার মারে।
খগেনের করুন কান্না আমি আর সইতে না পারি,
পকেট হাতড়ে কোনরকম ফিতার দাম একমাত্র সম্বল দশ পয়সা খুঁজে বার করি।
ঘুঘনি খাওয়া হলো না আর এলাম ঘরে ফিরি,
মহানবমীর সেই স্মৃতি কখনো মুছে ফেলতে পারি!
কার কি দুঃখ আমার মনে সেই দাগটা আছে চিরতরে।
খগেনের ঘরের কাছে গিয়ে মনে হলো দেখি খগেন কি করে!
ঢুকে দেখি দাওয়ায় বসে এক বুড়ী কাঁচা পাকা রুক্ষ চুলে লাল ফিতে বাঁধা।
তুমি চম্পা না! মাথা নাড়ে হ্যাঁ আমি চম্পা, কেমন আছ দাদা?
চাটাই পাতিয়ে দিয়ে বসতে বলে দাওয়ায়,
আমি ভাবি খগেনের ঘরে চম্পা! খগেন তাহলে কোথায়?
চম্পা বলে তিন মেয়েকে রেখে খগেন গেছে মরে,
দুঃখ তার থেকে গেছে খগেন কে বিয়ে করে।
আমি বলি না জানি কিছু,
আজ মহানবমী যাবেনা তুমি মেলায়!
দুবেলা চার পেট কেমনে চালাই,
লক্ষ্মীর ভান্ডার পাঁচশো পাই।
দুরবস্থা দেখুন চোখে,কি অবস্থা করেছে খগেন বাঁচি কেমন করে!
গ্রামের মানুষ কেউ তাকায় না সবাই যায় আড়াল করে।
পকেট থেকে পাঁচশো টাকার নোট বার করে দিলাম চম্পার হাতে ,
তিন মেয়ের করুন চাহনি আর পারছিলাম না সইতে।
চম্পা আনমনে তাকিয়ে থাকে নোটটি দুহাতে ধরে,
দু ফোঁটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ে পাঁচশো নোটের উপরে।
