সৌভাগ্যক্রমে একদিন বন্ধুর বোনের মেয়ের সঙ্গে পৌঁছে গেলাম গুরু কেলু চরনের ভুবনেশ্বরের বাড়িতে। শ্রজন নামক এই বাড়িটি ওড়িশা সরকার নৃত‍্য শিক্ষার জন‍্যই তৈরী করেছিল। বন্ধুর বোনের মেয়ে নৃত্য শিক্ষা করতো এখানেই। কেলুচরনের স্ত্রী লক্ষীপ্রিয়া বেরিয়ে সহাস‍্যে বললেন “বস”
কিন্তু বসবো কোথায়! পাঁচটি চেয়ারে পাঁচটি সুন্দরী বসে আছে,কোলে বসতে হবে!
আমি বললাম “মাসিমা কোউ আড়ে বসিমী”
মাসীমা বললেন”এবে আঁখির দেখুনি পরা,এ সবু ডিজাইন,বস।”
বেতের তৈরী চেয়ারে যে গদি দেওয়া আছে নৃত্য সাজে সে যেন এক অপ্সরীর নরম দেহ। লজ্জাবনত ভাবে বসে পড়লাম। মাসীমা সঙ্গে সঙ্গে চা নিয়ে এসে যে গল্প শুরু করলো মনে মনে ভাবছিলাম ছাড়া বোধ হয় পাবো না। পাশের একটি হলঘরে গুরু কেলুচরন ন‍ৃত‍্যরতা চারটি মেয়ের সঙ্গে নৃত্য সাধনায় মগ্ন। ঢোকা যাবে না।পরদার ফাঁকে একটু দেখা।
মাসীমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে দু ঘন্টা অনায়াসে কেটে গেল। শেষে গুরুর দর্শন পেলাম। নাচ শিখছিল যারা তাদের মধ্যে মিনাক্ষী শেষাদ্রী ও মাধুরী দীক্ষিত। একসঙ্গে আবার চা অনেক কথা।সবকথা লেখা যাবে না।৩০\৩৫ বছর আগের স্মৃতি ২/৩ দিন আগে ভুবনেশ্বর কেলুচরনের বাড়ি শ্রজনের সামনে এসে মনে পড়ে গেল। তিনি এখন ইহলোকে নেই।
গুরু কেলুচরণ মহাপাত্ৰ (Dr.Kelucharan Mohapatra) (জন্ম ৮ জানুয়ারী ১৯২৬ – মৃত‍্যু ৭ এপ্ৰিল ২০০৪)জন্মবাড়ী রঘুরাজপুর, পুরী, উড়িষ্যা। প্ৰথিতযশা ভারতীয় ধ্ৰুপদী নৃত্যশিল্পী, ওডিশি নৃত্য প্ৰসারক৷ ধ্ৰুপদী নৃত্যশৈলীতে গুরু কেলুচরণ বিংশ শতাব্দীর জনপ্ৰিয় ও স্মরনীয়। উড়িষ্যার পদ্মবিভূষণ সন্মান লাভ করা প্ৰথম ব্যক্তি।গোটিপুৱা প্ৰদৰ্শন করেছিল-যেটা ছিল উড়িষ্যার এক পরম্পরাগত নৃত্য৷ এই বিষ নৃত্য যুবক মহিলাদের সাজ-সজ্জা প্ৰভু জগন্নাথের গুণানুকীৰ্ত্তন করে৷ পরবর্তী পৰ্যায়ে এই নৃত্য বিষয়ে গভীর গবেষণা করেছিলেন৷ গুৰু কেলুচরণ মহাপাত্ৰই মৃদংগম, পাখোয়াজ তবলা নৈপুণ্য অৰ্জন করেছিলেন যার স্পষ্ট প্ৰতিফলন দেখতে পাওয়া যায় এখনকার নৃত্যতে৷ পরম্পরাগত পটচিত্ৰ অংকনে পারদৰ্শিতা অৰ্জন করেছিলেন৷
নৃত্যশিল্পী পত্নী লক্ষ্মীপ্ৰিয়া, পুত্ৰ রতীকান্ত। কেলুচরণ মহাপাত্ৰই ১৯৯৩ ভুবনেশ্বরে শ্ৰজন নামক নৃত্য-বিদ্যালয় গড়ে তুলেছিলেন ৷ বৰ্তমান রতীকান্ত মহাপাত্ৰ নেতৃত্বে এই শিক্ষানুষ্ঠান ওডিসি নৃত্য শিক্ষা, প্ৰসার ও রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে।
আদিপদ্ম বিভূষণ,পদ্মভূষণ,পদ্মশ্ৰী,
সংগীত নাটক একাডেমী ,শ্ৰীমন্ত শংকরদেব ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *