কাঁথির তীরভূমি পত্রিকায় ‘পথে প্রান্তরে’ সুদীপ মাইতির লেখা।
সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্রে কাঁথির জয়গুরু হোটেলে শুটিং । সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিনে তাঁর বাড়িতে হাজির হয়ে তাঁর ছেলে সন্দীপ রায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকার। অভাবনীয় এক অজানা তথ্যের দ্বার উন্মোচন করলো।
এই প্রসঙ্গে আমার কিছু স্মৃতি মনে পড়ছে।
সত্যজিৎ রায় কৃত রাজশেখর বসুর (পরশুরাম) গল্প অবলম্বনে ১৯৫৮ সালে সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ‘পরশ পাথর’ নামে একটি বিখ্যাত বাংলা হাস্যরসাত্মক চলচ্চিত্র মুক্তি পায়।
এই সিনেমায় একটি বাচ্চা পল্টুর চরিত্রে অভিনয় করেছিল আমার কলিগ বন্ধু মানস সান্যাল তার বয়স তখন চার ।
বন্ধু এখন বেঁচে নেই। তার মুখ থেকে যা শুনেছিলাম তাই দুকলম লিখছি।
“-আমি তখন ছোট ৪/৫ বছর হবে হয়তো। আমার ঘরের সামনে একটি ক্লাব ঘরে অন্যান্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলছিলাম। একদিন এক অচেনা লোক হঠাৎ ঘরে ঢুকে এক পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের মার্বেল গুলি খেলা দেখছিল। কিছুক্ষণ বাদে আমাকে তার কাছে ডাকলো, আমার নাম বাবার নাম বাড়ি জানতে চাইল তারপর সে চলে গেল। দু একদিন পরে বাবা আমাকে নিয়ে সেই লোকের বাড়িতে হাজির হলো। আমি সেই লোকটাকে দেখে চিনতে পারলাম। আমাকে সেই ভদ্রলোক তার কাছে ডেকে বললো -‘এই সব যে ক্যামেরা দেখতে পাচ্ছ এগুলি দিয়ে সিনেমা তৈরী করা হয়, তোমাকে দিয়ে একটা সিনেমা করবো’। এই কথা বলে আমার হাতে একটি লোহার মার্বেল গুলি ধরিয়ে দিল। একটি টেবিলের উপরে রাখা পেতলের প্রদীপ দেখিয়ে বললো ‘-এই প্রদীপটায় মার্বেল গুলি ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে- পারবে তো?’ আমি মাথা নেড়ে বলেছিলাম- ‘পারবো’। সেদিন বার দশেক চেষ্টা করেও গুলি লাগাতে পারিনি। আমার হাতে পরশপাথর পেতলের প্রদীপ কে ছুঁয়ে সোনা করতে পারেনি। বড় হয়ে পরশপাথর সিনেমা দেখে জানতে পারলাম পল্টু ওরফে আমি গুলি ছুঁড়েছি একবার প্রদীপ সোনা হয়েছে। আমার পরম সৌভাগ্য পরশপাথর খ্যাত পল্টুই মানস সান্যাল যা সত্যজিৎ রায় আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছিল।
সেদিনের সেই অজানা লোকটির নাম ছিল সত্যজিৎ রায়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *