ঘূর্ণিঝড় ১৯৯৮
আমার নাম গৌরাঙ্গ গিরি আমার আছে দশ চাকার লরি
আমার ড্রাইভারের কসবাগোলা বাড়ী নাম শম্ভু গিরি
রোজ যায় সূবর্ণরেখার চরে দাঁতনে সোনাকনিয়া গ্রাম
বালি আনে লরি ভরে রাতে হোটেলে খায় লরিতে ঘুমায় নদীর ঠান্ডা বাতাস ঝরে না ঘাম
ষোল মে ১৯৯৮ অবাক কান্ড রাত বারোটায়
লরী উড়ে চলে আকাশে স্বপ্ন নয় সত্যি শম্ভু মে ডে বলে গাড়ি থেকে লাফায়
কয়েক সেকেন্ডে লরী ধপাস করে আছড়ে পড়ে
শম্ভুও আছাড় খায় ঘোর কাটতে দেখে পড়ে নদীর পাড়ে
বড় বড় গাছ ভেঙ্গে হয়েছে ফালা ফালা রিকশা উড়ে গেছে উড়েছে দোকানের চালা
টর্ণেডোর তান্ডবে কোনভাবে শম্ভু বেঁচে আছে
নদীর জল উড়িয়ে নিয়ে চারদিকে বন্যা বয়ে গেছে
ঘুর্নিঝড়ের এরকম দাপট কেউ দেখেনি কবে কোথায়
সেকেন্ডে পঁচিশ কিলোমিটার আকাশপথে গিয়ে থেমেছে কসবাগোলায়
খবর পেয়ে পরের দিন সকালে কসবাগোলা ছুটে যাই
পুকুরে জল নেই তেঁতুলগাছের ডালে ঝুলছে মাছ কাৎলা রুই
মাটির ঘর নেই পাকা ঘরের ছাদ নেই ছোটোবড় গাছ সব ধরাশায়ী
ক্ষয়ক্ষতি যাই হোক না কেন মানুষ মরার খবর নেই
অবাক দৃশ্য দেখার জন্য দুর দুরান্তের লোকের ভীড় লোকে লোকারণ্য
মদনের রিকশা কোথায় উড়ে গেছে মদন কাঁদে রিকশার জন্য।

