নারী ও পুরুষ
শ্রুতিনাটক
(সংসারে দুটি প্রাণী,একজনের নাম সত্তর আর একজনের নাম তিয়াত্তর। এক নারী আর এক পুরুষ।)
৭৩- দেখ, তুমি আমার একমাত্র বউ ।
৭০-তুমি আমার একমাত্র স্বামী।
৭৩- এভাবে কেন বলছো?
৭০-কিভাবে বলবো?
৭৩-ধর, বিয়ের প্রথম দিন যেভাবে বলে। না মানে ২৫ শা বৈশাখ কি সাল যেন !
৭০- শাল কোথায় ছিল, একদিন একটা ভালো চাদর ও এনে দাওনি।
৭৩-ধুত্তোর, মূর্খ মেয়েছেলে। শালের কি দরকার। শাড়ি সেলাই করা কাঁথায় তো সত্তর পার করে দিলে। আমি সে কথা বলছি না আমাদের বিয়ের বছর কি সাল ছিল?
৭০-তুমি একটি মহামূ্র্খ। ১৯৭৯ সালের ২৫ শা বৈশাখ মেয়ের জন্মদিন মনে নেই। সে দিনই তো আমাদের বিয়ে হয়েছিল।
৭৩- হ্যাঁ তাইতো বটে। বৈশাখে জন্ম বলে বৈশাখী নাম রেখেছিলাম। জান তোমার মেমোরি না খুব ভালো। তবে কি জান মনের দুঃখ মনেই রয়ে গেছে। একটা পুত্র সন্তানের জন্ম দিতে পারলে না।
৭০-গায়ে ঠেস দিয়ে কথা! দোষটা তোমার। সবাই বলে পুরুষের দোষ।
৭৩- আমার বন্ধুরা বলেছে সবল নারীদের কন্যা সন্তান হয়।
৭০- তুমি দূর্বল পুরুষ পৌরুষত্ব নাই সারা জীবনটাই সুখ দিতে পারলে না।
৭৩-কিসের সুখ! পঞ্চাশ বছর আমার সঙ্গে ঘর করেছ ,এতগুলো মেয়ের মা হয়েছ আরও সুখ। আমার কোন দোষ নাই সব দোষ তোমার।
৭০-খালি খালি দোষ দিচ্ছ আমায়। মেয়েদের বিয়ে দিয়ে ছেলে পেয়েছি সেই আনন্দে চল্লিশ পার করলাম।আর কি চাই?
৭৩- জন্ম কুষ্টি আছে? তোমার বড় মেয়ের বয়স পঞ্চাশ আর তোমার চল্লিশ। ঢং! ৭৯ সালের বৈশাখে বিয়ে করেই বৈশাখী জন্মালো। আমার বয়স কত জান তিয়াত্তর আর তুমি কচি ছুঁড়ি। পরকীয়া নষ্ট মেয়েছেলে।
৭০-খবরদার বলছি মুখ সামলে কথা বল। ঝাউবনে লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করা ,মুখ ভেঙ্গে দেবো !
৭৩- দজ্জাল বুড়ী। থুড়ি থুড়ি। তুমি তোমার মেয়ের এত সুন্দর সব নাম দিয়েছ সত্যিই বলিহারি যাই।
৭০-সরস্বতী তো সরস্বতী পূজার সময় জন্মেছিল। বৈশাখে বৈশাখী নামগুলো কে দিয়েছে দেখতে হবে তো। এই যেমন ধর , মাঘি পূর্ণিমায় জন্ম বলে পূর্ণিমা। গুরুবারে জন্মেছে তাই গুরুবারি, শনিবারে জন্মেছে শনিয়া।
৭৩-ছোটটার নাম কে দিল?
৭০- আহারে কি নাম! সুনিতা! ওইরকম আবার নাম হয় নাকি কোনো কিছুর সঙ্গে মেলেনা।
৭৩-ঘটে তো কিছু নেই। সদ্য মহাকাশ থেকে ফিরে এলো এ সব খবর রাখ।
৭০-তুমি একটি আস্ত গাধা। আমার মেয়ের নখের সমান সেই মেয়ে হতে পারবে?
৭৩-তা হবে কেন। রাক্ষসী নখে শুধু নেলপালিশ লাগালে হবে?
৭০ -তুমি একটি রাক্ষস তাই মেয়েকে বল রাক্ষসী।
৭৩-তুমি যা বলবে সবটা আমাকে মানতে হবে!
৭০-মানতে হবে বৈকি। অপরাজিতা ফুলে ঠাকুরের পূজা হয় তাই অপরাজিতা নাম রেখেছি।
৭৩-কত নম্বর?
৭০-কত নম্বর মানে কি? তোমার মেয়ে কত নম্বর তুমি জান না। হায়রে কপাল কি জানোয়ারকে নিয়ে ঘর করছিরে বাবা।
৭৩- বাবা! আমি তোমার বাবা না তোমার মেয়েদের বাবা। কি দেখে যমুনা নাম দিলে। কি ভেবে শলা ,আরতী নাম দিলে।
৭০-ওরে আমার ঘাটের মড়া দশ দশখানা মেয়ের জন্ম দিয়ে নাম নিয়ে আমায় খোঁটা! ঠাকুর বিচার করবে।
৭৩-তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে ? দশটা মেয়ে কোথা থেকে এলো। আমি তো দশটার জন্ম দিইনি।
৭০-ঝাঁটা ধরবো নাকি। আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলা।
৭৩-ছি ছি ছি চরিত্র আর হিসাব এক হলো নাকি। শান্ত হয়ে মাথা ঠাণ্ডা করে নাম ধরে ধরে হিসাব কর দেখি তোমার কটা কন্যা সন্তান।
৭০- তোমার দায় পড়েছে তুমি কর।
৭৩-হায় নারী পুরানে কয় বার হাত কাপড়েও —-!
৭০-তুমি হিসাব করে বল। পোড়া মুখে আগুন জ্বালিয়ে তবেই শান্তি পাবো।
৭৩-আগুন জ্বালবো তোমার মুখে। তুমি দশকন্যার মা আর আমি ন কন্যার পিতা। তুমি যদি দাবী কর তোমার দশটা মেয়ে তাহলে আর একটি মেয়ের বাবা কে? জবাব তোমাকে দিতে হবে।
৭০- আগুনে ভস্ম হবে। আগুন লাগিয়ে এই সংসার ছেড়ে চিরকালের মত চলে যাবো।
৭৩-যাবে কোথায়? মেয়েদের কাছে? সে গুড়ে বালি।বয়স সত্তর এই বয়সে কোথাও যাওয়ার রাস্তা নেই । শুধু একটা রাস্তাই খোলা আছে। ওপরে। যেখানেই যাওনা কেন আমি তোমার সঙ্গে যাবো। কেবল তুমি আর আমি। আসল কথা কি জান বয়স বাড়লে মেমোরি দুর্বল হয়ে যায়। এই দেখ না বিয়ের সালটা তোমার আমার কারোরই মনে নেই। তোমার আমার কটি সন্তান তাও তুমি মনে করতে পারছো না। সবই ঠাকুরের ইচ্ছা। লক্ষ্মী বউ আমার রাগ কোরোনা।
বৈশাখী, সরস্বতী, পূর্ণিমা,গুরুবারী, অপরাজিতা, যমুনা,শলা,আরতী, সুনিতা আমার নটি মেয়ে। মা কখনো সন্তানের হিসাব ভুল করে? তুমি আমার সতিসাধ্যি স্ত্রী। আর ঝগড়াঝাটি নয় । মাথা গরম না করে দু কাপ চা করত দুজনে আরাম করে খাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *