শৌলা
কাঁথি আমার বসত বাটি
মাঝে মধ্যে শৌলা যাই।
মন টানে সাগর পানে
প্রানভরে আকাশ
সমুদ্র দেখতে পাই।
মাত্র এগার কিমি পথ
পা সাইকেল বাইক হলে ।
গাড়ী পারি সব পারি
আরও ভালো টোটো পেলে।
শৌলা থেকে দু কিমি
সমুদ্রের কাছে যেতে।
ভোরে সোনাঝরা সূর্যকিরণ
মোহময়ী চাঁদনী রাতে।
জোয়ার জলে খাঁড়ি যখন
ছলছলাৎ করে।
একা তখন বসে থাকি
প্রেমের বাঁশি শোনার তরে।
সব কলঙ্ক ধুয়ে যায় পূর্ণিমায়
চাঁদের আলো পড়লে জলে।
আলো আঁধারে ওই দেখা যায়
ডিঙ্গি গুলো চলছে হেলেদুলে।
এই দৃশ্য কেউ দেখেনি
কাউকে বলার দরকার নেই।
এই পৃথিবী একা আমার সাগর আমার
প্রকৃতি কে বলে যাই।
আঁধার যখন যায় টুটে
যাই ছুটে বাঁকিপুটে।
সুর্য আলো ফেলার আগে
পৌঁছাতে হবে দীঘার তটে।
কল্পনায় অজবীথি বিছাই জাল
সাগর না শেষ হয়।
মনের গভীরে আকাশ হাসে
পবন কানে কানে কয়।
শৌলা আমার জীবন কথা
হরন করে মর্মব্যথা।
পাশে পুরষোত্তোমপুর
মানুষের জলে বাস
ভোলা যায় কি তাদের কথা?
কখন ডুবে কখন ভাসে
কখন সাগর মারতে আসে।
সেই মানুষদের অন্ন জোগায়
খুশী তারা জলে ভেসে।
বাইক চলে ঢালে কাদায়
কখনো নেমে দিচ্ছি ঠেলে।
লাল কাঁকড়া দেখবো
সুদীপ আমি দুজন মিলে ।
যতই ছোটো তাদের পিছু
বুকে ব্যথা ধরবে হাঁফ।
শূন্য চরে ঢেউ মুছে দেয়
লাল কাঁকড়ার পায়ের ছাপ।
দলবদ্ধ সংসার এদের
কিন্তু এরা বিশৃঙ্খল।
শত্রু এলে রেডারে ধরে
অদৃশ্য হয় সমগ্র দল ।
খায় এরা নোনা জলের পোকা
বাস সমুদ্রচর।
মান্দারমনি ঘুর পথে
পাবেন লাল কাঁকড়া চর।
একদিন কাক ভোরে বসে আছি
সমুদ্র খাঁড়ির ধারে।
অনেক মানুষ জাল ফেলে
কত কত মাছ ধরে।
গিয়ে দেখি আমার ড্রাইভার রাম দাস সমুদ্রে ফেলছে জাল।
পুলক উঠলো জেগে আর সয়না
জাল ফেলবো কাল ।
ঠাকুর্দা স্বর্গে গেছেন
রেখে গেছেন দোমালা জাল।
নোনা জলে মিঠা মাছ
কই পুঁটি তাউরী চিংড়ি ধরবো কাল।
পরের দিন রাম আমি
যাই শৌলা সমুদ্র খালে।
নেশায় পেলো মাছ শিকারে
কাজকর্ম গেল রসাতলে।
কাদায় বসা ভাঙ্গা নৌকার উপর চড়ে ফেলতে গেছি জাল।
জোয়ারের ধাক্কায় ভাঙ্গলো নৌকা পড়লাম জলে হয়ে বেসামাল।
কোমরের চোট সারেনি
স্বপ্ন এখন জাল ফেলা।
জাল ফেলে মাছ নয়
নেট দিয়ে মানুষ ধরার খেলা ।
প্রায় যাই সমুদ্র ডাকে দিনের শেষে মেটাতে চোখের জ্বালা।
পাল্টে গেছে পুরোনো সব
নতুন সাজে সেজেছে শৌলা।।




Nice
Thanks
Thankyou