শিকার
চল্লিশ বছর বয়স যখন কাজের সূত্রে বালিঘাইতে থাকি,
সেবা করি গ্রামের মানুষের বন্ধু বলে সবাইকে ডাকি,
মনের শান্তি চাকরীতে নয় দশ গাঁ আমায় চেনে,
সেবায় আনন্দ, পড় আনপড় প্রতিটি মানুষ আমাকে জানে,
ছোটোখাটো অসুখ বেসুখে বন্ধু দাদা পঙ্কজ ডাক্তার বাবু,
দিতেন ওষুধ আমার পরিবারকে পয়সা দিতে হয়নি কভু,
হেডমাস্টার খগেনদা বেজায় রসিক কথায় কথায় রস ঝরে,
প্রায় দিন ঘর যেতেন না দড়ির খাটে শুতেন আমার ঘরে,
রাতে স্বপ্ন দেখেন দড়ির খাটে স্বর্গারোহন করেন তিনি,
নিমুদা আরেক প্রিয় বন্ধু কলেজ কর্মী সমাজসেবক ইনি,
হঠাৎ একদিন রাতে খগেন দা বন্দুক হাতে ঢুকলো ঘরে,
এক পাও নড়বে না কেউ কড়া সু্রে ফরমান জারী করে,
বাচ্চা লুকায় মায়ের কোলে জেঠুর এই কান্ড দেখে ,
আমি কাটারি তুলে খবরদার দিব ছুঁড়ে জোরে দিলাম বকে,
যাত্রাদলে নবাব সাজেন খুব নাম নাটক শেষে থামে খগেনদা,
নবাবের হাসি হেসে এবার বলে বৌদি নিয়ে এসো চা,
বন্দুক লাইসেন্স রিনিউ হবে থানায় আমাকে যেতে হবে ,
দুজনের বন্দুক রিনিউ হবে আমাকে সঙ্গে নিয়ে যাবে,
শিকার তাদের বড় নেশা যাবে পাশের দুবদা পাঁঠে,
রাজী হলাম তাঁদের কথায় যেতে হবে রাতে দুবদার মাঠে,
দীঘির পাড়ে বটগাছে চালাবে গুলি পাখিদের ঘুম ভাঙ্গার আগে,
সামখোলা বক সারস মাংস মোলায়েম খুব খেতে নাকি ভালো লাগে,
রাতে জঙ্গলে কেমনে যাবো বাঘ শেয়াল সাপ আছে,
ভয় কি দুটি বন্দুক গামবুট আছে তাঁদের কাছে,
আমি যাবো সবার আগে সাইকেল গড়িয়ে হেডলাইট জ্বেলে,
ক্যারিয়ারে ব্যাটারি বাঁধতে হবে দশক্রোশ সাইকেল ঠেলে,
পথ নেই ভাঙ্গা আলে লতাগুল্ম খেজুর কাঁটায় ভরা,
অঘ্রানের আমন ধান এক মানুষ লম্বা গায়ে বিঁধছে কেরা,
শেয়াল এদিক থেকে ওদিক যাচ্ছে বিষধর সাপের ফোঁসফাস,
একটি ও বাঘ যায় নি দেখা এখনো ঝোপের আশপাশ,
ধানক্ষেতে বন্দুক নিয়ে শুয়ে শুয়ে পৌঁছলো দুজন দীঘির কাছে,
বড় বটের মাথায় তখন মাছি আঁধার ছুঁয়ে আছে ,
যাচ্ছে না কিছুই দেখা কোথায় পাখী চোখ যায় না আর,
আন্দাজে গুলি চালায় গাছের মাথায় যেই বলেছি ফায়ার,
ঝাপটা ঝাপটি আকাশ কাঁপিয়ে উড়লো শয়ে শয়ে পাখির দল,
যুদ্ধ শেষ কমান্ডার ধরাশায়ী ভাগলো পাকিস্তানের সৈন্যদল,
গোখরোর ছোবল পায়ে বেসামাল আমি সাইকেল নিয়ে খালে,
দুজন বন্দুক রেখে খানিক পরে আমায় টেনে তোলে,
বুটে্র গায়ে গোখরোর দাঁত বেঁচে গেছি কপাল আমার,
অক্ষত পা ঠিক আছে জুতো খুলে দেখেন ডাক্তার ,
জয়ের আনন্দে ফ্লাস্কের চা বিস্কুট খাওয়ায় আলে বসে,
দিনের আলো ফুটলে কটা শিকার বোঝা যাবে শেষে,
সকালে গুলিবিদ্ধ গোটা চার বক সামখোলা আনে ডাক্তার বাবু,
রক্ত ঝরা পাখীর দুঃখে আমি হয়ে গেলাম কাবু,
খগেনদা মাংস কেটে আলের পরে ষ্টোভে রান্না করে,
খাওয়ার সময় দুজন আনন্দে খায় বেশ মজা করে,
খাওয়া হলো না গন্ধে বমি, হলো আমার পেটের বিকার,
প্রনাম জানাই ডাক্তার ও মাষ্টারকে আর যাইনি করতে শিকার।।
              ⌛⌛⌛

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *