নাটকের নাম—–
** “অনেক বড় হবে”**
২০ বছর বয়সে লেখালেখির কাজ শুরু করেছিলাম। ছোট ছোট গল্প নাটক অনেক লিখেছি কিন্তু কোনো লেখাই আর ছাপার অক্ষরে দেখিনি।
তবে বেতার জগৎ ম্যাগাজিনে দু একটি লেখা ও চিঠি ছেপেছে। বাবা সেই সময়ে কোলকাতা থেকে বাড়ী আসার সময় কোনোভাবে একটি বেতার জগৎ ঘরে এনেছিলেন। তখন মাসিক বা পাক্ষিক বেরোত। সম্ভবত পঞ্চাশ পয়সা বা আরো কম দাম ছিল। কোনোভাবে পয়সা মানি অর্ডার করে গ্রাহক হয়েছিলাম। গ্রামের পোস্ট অফিস তো আমার লেখা বেরোবে কবে পাবো! হা-হুতাশ করে থাকতাম।
১৯৭২ সালে স্কুল পড়ুয়া হিসাবে কোনো বড় বড় লেখকের পাশে আমার নাম থাকবে একথা ভাবা আমার দুঃস্বপ্ন ছিল। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা পাঠিয়ে অপেক্ষা করতাম প্রকাশের দিন পর্যন্ত। রেডিওর নাটক শুনতাম খুব মনোযোগ সহকারে ,শুনে মনে হতো কত সহজ এই নাটক লেখা। অলীক কল্পনায় নানান চিন্তাধারার নাট্যরূপ হয়ে ঝরেছিল দিস্তার পর দিস্তা সাদা কাগজের পাতায় কালি হয়ে।
লেখা লেখা আর লেখা ,এই করতে করতে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলাম। মনে পড়ে ক্লাস নাইনে যখন পড়ি তখন ষান্মাসিক পরীক্ষার উত্তরপত্র নাম্বার দেওয়ার পর ক্লাসে হাতে হাতে দেওয়া হতো। বাংলা যিনি পড়াতেন তিনি প্রায় প্রত্যেক দিন একটি ছড়ি নিয়ে ক্লাসে ঢুকতেন। সেদিন তার ব্যতিক্রম হয়নি,বাংলার উত্তরপত্র বান্ডিল হাতে স্যর ঢুকলেন। এক এক করে নাম ডাকছেন আর খাতা দিচ্ছেন ও বাঁ পায়ের মাসলে এক ঘা ছড়ি। ৬২ জন ছাত্রের ৬১ জনকে খাতা দেওয়া যখন প্রায় শেষের দিকে আমি ভাবছি আমার খাতা বোধ হয় হারিয়ে গেছে বা এরকম অনেক কিছু, যেন ৬১ বেতের ঘা আমার পাকে অবশ করে দিয়েছে। সবার শেষে আমার ডাক পড়লো। কাছে যেতেই তিনি জানতে চাইলেন- “শ্রীকান্ত চরিত্রের এই উত্তরটা কোথা থেকে পেয়েছ ?” ৬১ ঘায়ের পরে ৬২ তে আমার পায়ের আর কিছু থাকে! আবার জানতে চাইলেন। আমি হার্টফেল করতে করতে বললাম ”আমি নিজে লিখেছি” খুব ভালো হয়েছে বলে বেতটি টেবিলে রেখে খাতাটি আমাকে দিয়ে দিলেন। বাংলায় ৬২ নম্বর! বেত ৬২ আর পড়লো না। সেদিনের সেই কথা কি আর ভোলা যায়!
দেশের ঘরের মোহ কাটিয়ে জোর জবরদস্তি বাবা তাঁর চাকুরিস্থল কলকাতায় নিয়ে একটি চ্যাটার্ড একাউন্টেন্ট ফার্মে ৬০ টাকা মাইনের চাকরীতে ঢুকিয়ে দিলেন। বাবা তখন ইনকাম ট্যাক্সে চাকরী করতেন।
গ্রামের সংসারে পাঁচ ভাই এক বোন। বন্যার প্রকোপে চাষবাস না হওয়ার কারণে অভাব অনটনের সংসার। তাই গ্রাম ছাড়তে হয়েছিল। কলকাতায় একসঙ্গে ৭ নং শশীভূষণ দে ষ্ট্রীটে একটি ঘর নিয়ে বাবা কাকা এরকম ১০ জন মিলে মেষ বানিয়ে ছিলাম। কলেজে পড়া ,লেখালেখি ইলেকট্রনিকের কাজ শেখা, ভালো চাকরির চেষ্টায় ৭ বছর কাটিয়ে দিলাম। অবশেষে একসঙ্গে চারটে চাকরি জুটলো রেল, পুলিশ, পোঃমাষ্টার, ব্যাংক। ব্যাংকের চাকরিই অগ্রগন্য। ইতিমধ্যে কয়েকটি নামি অনামি পত্রপত্রিকায় আমার লেখা কবিতা নাটক বেরোতে শুরু করেছে। প্রথম পোষ্টিং কোলকাতায় এলাহাবাদ ব্যাংক, টালিগঞ্জ শাখা, দুমাস তিন মাস করে এক একটি শাখায় এই করে দশ এগারো টি শাখা ৭৭-৭৮ দু বছর ঘুরালো ব্যাংক। সেই সময়কালে রেডিওর নাটক শোনা ও লেখা জোর কদমে চলছে। আকাশবাণীর সঙ্গে সেরকম যোগাযোগ মাধ্যম খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ৭৮ এর প্রথম দিকে ঘটলো এক বিপর্যয়। আমার বাড়ীর সম্পর্কীয় মামাতো বোনের সঙ্গে বাবা বিয়ে করিয়ে দিলেন। এমতাবস্থায় বৌকে নিয়ে কোলকাতা শহরে থাকা খুবই কষ্টের, তাই একটু গ্রাম এলাকা খুঁজে রামরাজাতলায় আদর্শ সংঘের পাশে একটি মাটির ঘরে ১০ টাকা ভাড়ায় বৌকে নিয়ে থাকলাম।
আগে শুনেছিলাম আকাশবাণীর ঘোষক ক্ষৌনীশ বাগচীর সাঁতরাগাছি তে বাড়ি। খুব খোঁজাখুঁজির পর বাকসাড়াতে একদিন তার বাড়িতে হাজির হলাম। তাঁকে আমার আবেদন প্রান খুলে জানাতেই তিনি আমার চৌদ্দগুষ্টির খবর নিয়ে বললেন ” তুমি যখন ইলেকট্রনিকস এর কাজ জান, ভালোই হলো, আমি একটা রেকর্ড প্লেয়ার কিনতে চাই, কোথা থেকে কিনবো বলতো? “
এই বলে ঘরের ভেতর থেকে কিছু এল পি ডিস্ক রেকর্ড বার করে নিয়ে এলেন। ধূলো ঝেড়ে একটি রেকর্ড বার করে বললেন । “নটি বিনোদিনীর কি অবস্থা দেখেছ, এগুলো ষ্টুডিও তে এসে কোম্পানির লোকেরা দিয়ে যায় আর তোমার বৌদি এগুলোকে! কবে ফেলে দেবে তার ঠিক কি?
আমি সেদিনই তাঁকে কথা দিয়ে দু দিনের মধ্যেই একটি আমার হ্যান্ডমেড রেকর্ড প্লেয়ার দিয়ে আমার আর্জির কথা বললাম। আমার রচনা নাটকের পান্ডুলিপি দিলাম। তিনি আমার খুব প্রশংসা করে আমার ‘ভুল’ নাটকের থিম জানতে চাইলেন। সেই সময় বিবাহের পণপ্রথা নিয়ে খুব হৈচৈ চলছিল। আমার নাটকের সারার্থ ছিল পণপ্রথার উচ্ছেদ। তখন সদ্য লেখক শ্রদ্ধেয় বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের পণপ্রথার বিরুদ্ধে নাটক লেখা চলছে। আমার নাটক তার আগেই লেখা হয়ে গেছে। ক্ষৌনীশ বাগচী এক রবিবার আমাকে আকাশবাণীর নাট্যবিভাগের ষ্টুডিওতে ডেকে পাঠালেন।
ঠিক সেই সময় ব্যাংকের চাকরিতে খড়্গপুরে জয়ন করেছি।
আকাশবাণীর গেটে দরোয়ান আটকাতে আমি বাগচীদার নাম বলতেই দরোয়ান ছেড়ে দিল। ঈশ্বর কে অনেক ধন্যবাদ দিলাম।
ভেতরে ঢুকেই বাগচীদার নাম বলতেই আমাকে দেখিয়ে দিল। ওই এগার নং ষ্টুডিও। দোতলায় একটি গলি রাস্তা দুদিকে সারবদ্ধ ঘরগুলোতে এক একটা ষ্টুডিও। এগারো নং এর সামনে যেতেই একজন দরজা খুলে বেরিয়ে এলো।’ তুমি! এসো এসো। ‘ আমার হাত ধরে ষ্টুডিওর ভেতরে টেনে নিয়ে গেলেন বললেন ‘কোন শব্দ করবে না’।
অর্ধবৃত্তাকার ডেস্কের একদিকে গদি আঁটা চেয়ারে তিনি বসলেন আমাকে পাশে বসালেন।
ডেস্কে আঁটা মাইক্রোফোনের কাছে মুখ নিয়ে বললেন ‘আকাশবাণী কোলকাতা কেন্দ্র ক থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠান শুনছেন। এবার শুনবেন অমর পালের কন্ঠে কয়েকটি লোকগীতি।’
একটি এল পি রেকর্ড চাপিয়ে সুইচ দিলেন। এবার বললেন’ চল জগন্নাথের কাছে যাই’। আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে ষ্টুডিও র বাইরে একটা অফিস ঘরে ঢুকে বললেন ” জগন্নাথ এই নাও। এই সেই রত্নাকর ওরফে সুধাংশু রাউৎ।’ আমাকে জগন্নাথ বসুর সামনের চেয়ারটায় বসিয়ে দিয়ে বললেন ‘ কথা শেষ করে আমার সঙ্গে দেখা করে যাবে’ এতক্ষণ ক্ষৌনীশ বাগচীর কথা শুনছিলেন।
আমার ছদ্মনাম ছিল ‘রত্নাকর। ‘
জগন্নাথ দার (জগন্নাথ বসু) গলার সেই আওয়াজ! যার যান্ত্রিক আওয়াজ এতদিন আমাকে পাগল করে রেখেছিল, সেই কন্ঠস্বর। ‘বল ভাই কেমন আছ? ‘
‘ভালো আছি’
‘ ভালো লিখেছ কি যেন নামটা? ‘
‘ভুল’
‘এখন ওই পণপ্রথার বিরুদ্ধে লেখালেখি চলছে তো, আমি পড়েছি, খুব ভালো হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে চিঠি পেয়ে যাবে।’
পাশের ভদ্রমহিলা আমার দিকে তাকিয়ে একটু হেঁসে জলের গ্লাসের ঢাকনাটা খুলে একটা ট্যাবলেট ফেলে এক গ্লাস জল পান করলেন। ভদ্রমহিলার নামটা পরে জেনেছিলাম ইনিই শুক্লাদি, শুক্লা বন্দোপাধ্যায়। রেডিওর সেই চিরপরিচিত গলায় হঠাৎ আমাকে লক্ষ্য করে বলে উঠলেন ‘কপালে ওসব কি? ‘
যত বেশী না ফোঁড়ার যন্ত্রনায় কষ্ট হচ্ছিল তার থেকে ও বেশী আনন্দ পেলাম শুক্লাদির স্বরে, এ যেন অভিনব এক প্রাপ্তি।
জগন্নাথ দা শুক্লাদির প্রশ্নের উত্তর টা দিয়েই দিলেন ‘খুব আম খাচ্ছ বোধ হয়’?
ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কথাই হলো শেষমেষ জগন্নাথ দা তার বাঁদিকের ভদ্রলোককে দেখিয়ে বললেন ‘ইনি অজিত মুখোপাধ্যায় আর তোমার পাশে যিনি বসে আছেন চিনতে পারছো? ‘ আমি এতক্ষণ খেয়াল করিনি, ভদ্রলোকের মাথার সব চুলই পাকা কিন্তু বয়েস লাগলো চল্লিশের মধ্যে।
‘ইনি হলেন বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায় ‘
আমি আবার চিনবোনা নাটকে র পোকা আমি। প্রায়ই বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের নাটক রেডিও তে শুনেছি।
শ্রুতিনাটক লেখার একটি আলাদা কৌশল আছে একমাত্র বৈদ্যনাথ বাবুই এই কাজটি দক্ষতার সঙ্গে করতেন। অনেক বড় বড় সাহিত্যিকদের উপন্যাস বা গল্প তিনিই নাট্যরূপ দিতেন। কুশীলবদের না দেখিয়ে শ্রোতাদের কানে বা অন্তরে গল্পের চোখে দেখা পরিবেশ তৈরী করে দেওয়ার নাম শ্রুতিনাটক । নাটক শুনে শুনে আমিও কিছুটা রপ্ত করে সরাসরি নাটক লিখে আকাশবাণীর নাট্য বিভাগের অনুমতিপত্র পেয়েছিলাম।
জগন্নাথ দা বললেন “এই ছেলেটি ভালো লিখতে পারে। “
আমি খুব লজ্জা পেলাম।
ভালো কি মন্দ নিজের কাছে অতি ভালো হলেও স্রোতা কি বলবে তাই লজ্জা।
“তুমি কি নাটক লেখ?”
“তুমি কী নাটক লেখ?”
একটি কথা বলার ভঙ্গিতে অর্থ বুঝতে মোটেই সময় লাগেনি আমার। তবুও বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায় আমার দিকে ঘুরে একেবারে মুখের কাছে মুখ এনে জানতে চাইলেন। কি কি নাটক আমার ঝুলিতে আছে। অনেক নাম বললাম যেমন ভুল, আলোকের সন্ধানে, শ্বেতী, সাইকোস্কোপ, মড়া মারার জঙ্গলে,নাট্যকার ও নায়িকা,কলির সকাল দুপুর সন্ধ্যা রাত,জামাই চরিত, বেতার ইত্যাদি র মধ্যে “নাট্যকার ও নায়িকার” থিম জানতে চাইলেন। থিমটা বলতেই তিনি আমার মাথায় হাত দিয়ে বললেন “অনেক বড় হবে”।
বড় হওয়া কাকে বলে সেটাই জানতাম না। এখন বড় হয়েছি না ছোট আছি মেপে দেখার সুযোগ আর হয়নি।
ওই আশীর্বাদ পেয়েই আরো সংসার ও চাকরি জীবনে বেশী করে জড়িয়ে পড়লাম। পরবর্তী সময়ে জগন্নাথ বসু আমার গ্রামের বাড়ি বাদলপুরে এসে পাড়ার ক্লাবের বিচিত্রানুষ্টানে নাটক পরিবেশন করে গেছেন। তখন আমিই ক্লাবের সেক্রেটারি ছিলাম। এরপর চল্লিশটা বছর কেটে গেল । বড় আর হলাম কোথায়! তবে বেতার নাট্যকার হিসেবে রাষ্ট্রপতির স্বীকারোক্তি পত্র পেতে ক্ষৌনীশ বাগচীর চরম প্রয়াস আমাকে সার্থক করেছে। তিনি আজ নেই তাঁকে জানাই আমার শতকোটি প্রনাম। সেই সঙ্গে আকাশবাণীর সমস্ত কলাকুশলী, কর্মীবৃন্দদের ও লেখক প্রযোজকদের জানাই সশ্রদ্ধ প্রনাম। আকাশবাণী থেকে নাটক প্রচারিত হলে কেন্দ্রীয় সরকার রয়েলটি দিত সম্ভবত একটি নাটকের প্রথম প্রচার ১২৫ টাকা, পুনঃপ্রচারে কিছু কম। সমস্যা হলো যে ব্যাংকের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট লাগবে। চিঠি নিয়ে ছুটলাম অনিল দত্ত দার কাছে , তিনি ছিলেন এলাহাবাদ ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের জেনারেল সেক্রেটারী। তখন এডমিনিস্ট্রেশন এ চেনা অনেকেই ছিলেন। তড়িঘড়ি অনিলদা সব করে আমাকে দিয়ে দিলেন। সবাই আমার খুব প্রশংসা করলেন। এঁদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।
বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নিজের অনেক কথাই বলা হয়ে গেল, তা হোক। আপনারা পাঠ করলেই মার্জনা করা হয়ে যাবে।
বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বহুবার এই আকাশবাণীতেই সাক্ষাৎ হয়েছে বহু কথা হয়েছে। বিখ্যাত একজন নাট্য বিশারদ। তিনি আজ নেই। আজ তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে “হাওড়া পঞ্চক” এর কিছু ছবি ও অজিত মুখোপাধ্যায়ের কিছু কথা সহযোগে একটি ভিডিওর অবতারণা করলাম। বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে কিছু তথ্য তাঁর ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত।
বৈদ্যনাথ মুখােপাধ্যায় : জন্ম ২৮ নভেম্বর, ১৯৩২, হুগলি শহরে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক স্নাতক। বছর দুয়েক শিক্ষকতা করার পর ভারত সরকারের অডিট ডিপার্টমেন্টে কর্মপ্রাপ্তি। সেখানে অডিট অফিসার পদে উন্নীত হয়ে, ডেপুটেশনে পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের ফাইনান্সিয়াল অ্যাডভাইসার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় অবসর গ্রহণ করেন। লেখালেখি শুরু ছাত্রাবস্থা থেকে। প্রথম ছােটোগল্প ‘প্রলেপ প্রকাশিত হয় (১৯৫৭) রবিবাসরীয় আনন্দবাজার পত্রিকায়। ওই সময় থেকেই আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের বেতার-নাট্যকার রূপে নিয়মিত নাটক রচনা ও প্রভূত খ্যাতি অর্জন। দেশ, আনন্দবাজার, সানন্দা, যুগান্তর, বেতার জগৎ ইত্যাদি জনপ্রিয় পত্র পত্রিকার পাশাপাশি বিভিন্ন নাট্যপত্রিকার লেখক। কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গ ও বহির্বঙ্গের বিভিন্ন নাট্যদল তার নাটক অভিনয় করেছে। হাসির নাটকে তার সাফল্য সর্বাধিক। একই সঙ্গে কথাসাহিত্যের একাধিক শাখায় এবং মঞ্চ নাটক, বেতার নাটক ও শ্রুতিনাটকে তিনি সমান জনপ্রিয়। সুলেখা গল্প-প্রতিযােগিতায় এবং ক্যালকাটা কেমিক্যালের সঙ্গে যৌথভাবে যুগান্তর পত্রিকা আয়ােজিত গল্প-প্রতিযােগিতায় পুরস্কৃত হয়েছেন; পেয়েছেন উল্টোরথ নাট্যপ্রতিযােগিতা পুরস্কার এবং অভিনয় পত্রিকা প্রদত্ত সাধনকুমার ভট্টাচার্য স্মৃতি পুরস্কার। সংসদ বাংলা নাট্য অভিধান তার সর্ববৃহৎ কর্ম। এ বাবদে প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মাননার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযােগ্য কলকাতার গণকৃষ্টি প্রদত্ত ধরণী ঘােষ স্মৃতি পুরস্কার (২০০৬), হাওড়ার নটধা প্রদত্ত প্রণব স্মারক সম্মান (২০০৭), অন্য থিয়েটারের নাট্যস্বপ্নকল্প সম্মান (২০১০) ও পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি সম্মাননা (২০১২)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *