কাঁথির বালিদন সৃষ্টির এবং সৃজনের ইতিকথা।
নাশিরদার সঙ্গে আমি ও সুদীপ একদিন কাঁথির বালিবাঁধ খুঁজতে বেরিয়ে পড়লাম। বালিবাঁধ তো দূরের কথা সমুদ্র চর ছাড়া সেই বালিয়াড়ি কোথাও চোখে পড়লো না। তারই কিছু কথা।
কাঁথির বালিদন হল নিজ-কসবা গ্রাম থেকে কমবেশী ৭৫ কিলোমিটার ধূসরশুভ্র এক বালিচর বা বালিবাঁধ। যেন উপকুলে চীনের প্রাচীর। যেন লাখো লাখো কারিগরের বছরের পর বছর ঘাম ঝরানো বেমিশাল ফসল। আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে, প্রাচীন তাম্রলিপ্তের অবস্থান ছিল, আজকের তমলুক শহরের অবস্থান যেখানে, ঠিক সেই জায়গাতেই। খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে এক প্রবল জলোচ্ছ্বাসে তাম্রলিপ্তের অদূরেই জেগে উঠেছিল বালির পাহাড় নিয়ে এক বিস্তীর্ণ বালুকাময় ভুভাগ। কাঁথির আজকের এই বালুয়াড়ী সেই খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকের স্বপ্নিল সমুদ্রের খেয়ালী মনের এক অভূতপূর্ব ফসল। ব্রিটিশ প্রশাসক,একদা মেদিনীপুরের কালেক্টর ঐতিহাসিক এইচ.ভি.বেলী তাঁর বিখ্যাত ‘সিলেকশনস্ ফ্রম দ্য রেকর্ডস অফ দ্য বোর্ড অফ রেভিনিউ এ. পি.- রিপোর্ট অন দ্য সেটেলমেন্ট অফ জলামুঠা এস্টেট ‘—এর ৮৯ পৃষ্ঠায় নিম্নোক্ত এই প্রকার ঐতিহাসিক তথ্য দিলেন। ‘The inundation which is mentioned in starling’s Orrissa to have caused the formation of Chilka Lake and to have occurred in the 3rd century of our era is supposed to have reached this part of country and formed this rage and others to the west in the direction of Midnapur’ (তথ্যঃ- রোমন্থন,প্রথম পর্ব,প্রশান্ত প্রামাণিক, পৃ – ১৩)
এই দনের প্রাকৃতিক রুপ এখন আর নেই। প্রচুর ছোট ছোট গাছপালা ও লতাগুল্ম ভরা বালির পাহাড় , মানুষের বসতি, বিশাল বিশাল অট্টালিকায় পরিপূর্ণ। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় চোখে দেখা যা লিখেছেন তার কপালকুণ্ডলা কাব্যে সংগৃহীত এক কপি সংযোজন করলাম।










