নিরন্ন শিশু
–সুধাংশু রাউৎ–
পাশের বাড়ী ছেলের বৌভাত অতিথি গন আসছে দলে দলে
ভালোমন্দ খাওয়া হবে সুমিষ্ট সানাইয়ের সুর মন নাচছে তালে তালে
আলোর বাহার রঙ্গীন প্যান্ডেল সুন্দর সুন্দরীর নতুন নতুন সাজ
পুরোনো পাঞ্জাবি মাটির কষ একটু ছেঁড়া লাগছে বড় লাজ
উপহার একটি ছোট কবিতার বই তাও কিনেছি ধারে
যে যা ভাবে ভাবুক এই গরিব কি আর দিতে পারে
হাতে নিয়ে বইখানি সবার শেষে গেটে ঢুকতে গিয়ে
ক্ষুধার্ত একটি শিশু খাবারের দিকে তাকিয়ে বসে গেটে ঠেস দিয়ে
পাশের ডাস্টবিনে কুকুর গুলো এঁঠো পাতায় করছে কাড়াকাড়ি
আয়োজন ভালো ব্যাংক চাকুরে বিয়ের খরচ অনেক প্রাসাদোপম বাড়ি
উপহার দিয়ে শেষ পংক্তির সবার শেষে বসলাম খেতে
পোলাও ভাত মর্টন কালিয়া মিষ্টি পায়েস দিয়ে গেল পাতে
খাওয়া শেষে ছেলের বাবা টহল দিয়ে বলেন ‘কেমন রান্না দাদা’
‘খুব ভালো’ ক্ষিদা নেই, মুড়ে ব্যাগে ঢুকাই মেটাতে শিশুর ক্ষুধা
চোখের জল অন্তরে শুকায় যাই ছুটে সেই শিশুর কাছে
নেই সেখানে কেউ জানে না সে কোথায় গেছে
পাতা ভর্তি খাবার সব ছুঁড়ে ফেলি পাশের ডাস্টবিনে
কারে বলি কেউ জানে না এই বোঝা বয়ে বেড়াই সারা জীবন আপন মনে।

